১১টি বিদেশি পিস্তল, ৩৯৪টি গুলিসহ  গ্রেপ্তার দীপু রিমান্ডে


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
১১টি বিদেশি পিস্তল, ৩৯৪টি গুলিসহ  গ্রেপ্তার দীপু রিমান্ডে

১১টি বিদেশি পিস্তল, ৩৯৪টি গুলিসহ গ্রেপ্তার শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মেহেদী হাসান ওরফে দীপুর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাড্ডা থানার অস্ত্র আইনের মামলায় শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন রিমান্ডের আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর আসামি বিপুকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক সুমন মিয়া তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

ওই আবেদনে বলা হয়, আসামি বিপুর সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। বিপুসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহায়তায় দীর্ঘদিন যাবৎ গোপনে বাড্ডা-ভাটারা থানা এলাকাসহ মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিল। আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত আছে। আসামিকে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে উল্টা পাল্টা তথ্য প্রদান করে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে।
আসামি অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির। মামলাটি তদন্তাধীন। জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগ্নেয়াস্ত্র সংরক্ষণ কিংবা অন্য কোথাও বিক্রয় করেছে কি না? আগ্নেয়াস্ত্র কোন কোন সন্ত্রাসীদের নিকট বিক্রয় করেছে? কোন কোন সন্ত্রাসীদের নিকট আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রয়ের উদ্দেশো নিজের অস্ত্রগুলো হেফাজতে রেখেছে।

কোনো বড় ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সংঘটন এবং কাউকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিজ হেফাজতে রেখেছে কিনা? মামলার অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করার জন্য তার সাত দিনের রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন। পরে শুনানি শেষে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে আসামিপক্ষে কোন আইনজীবী ছিলেন না।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, গতকাল শুক্রবার মেহেদী হাসানকে অস্ত্র, গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে পুলিশ সূত্র থেকে জানা যায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের হয়ে রামপুরা,বনশ্রী, বাড্ডা, ভাটারা, বারিধারা ও গুলশান এলাকার অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন মেহেদী হাসান দীপু। মেহেদী ও তার সহযোগীদের কাছে আরও অস্ত্র রয়েছে। অস্ত্রগুলো মূলত সুব্রত বাইন ও আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদের। গত বছরের মে মাসে কুষ্টিয়া শহরে যৌথ বাহিনী অভিযানে সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সুব্রত বাইনের হয়ে অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন মেহেদী হাসান।

পুলিশ জানায়, মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান সুব্রত বাইনের সহযোগী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাড্ডা, ভাটারাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র-গোলাবারুদ বিক্রি করে আসছিলেন।

নব্বইয়ের দশকে ঢাকার অপরাধজগতের আলোচিত নাম ছিল সুব্রত বাইন। আধিপত্য বিস্তার করে দরপত্র নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজিতে তার নাম আসা ছিল তখনকার নিয়মিত ঘটনা। এসব কাজ করতে গিয়ে অসংখ্য খুন-জখমের ঘটনাও ঘটেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, সুব্রত বাইনের সহযোগী হিসেবে মেহেদী হাসান, ওয়াসির মাহমুদ সাঈদ ওরফে বড় সাঈদ, গোলাম মর্তুজা বাবু ওরফে মধু বাবু, সোহেল ওরফে কান্নি সোহেল কাজ করেন। গত এক বছরে এঁরা একাধিক খুনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। এর মধ্যে গত বছরের ২০ মার্চ গুলশানের পুলিশ প্লাজার সামনে ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সুমন নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওয়াসির মাহমুদ সাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের দুই মাস পর জামিনে বেরিয়ে আসেন সাঈদ।

মেহেদী হাসানের সঙ্গে বাড্ডা ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তার ভাই আলমগীরেরও ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর প্রকাশ্যে আসেন সুব্রত বাইন। প্রতিবেশী দেশ থেকে বেশ কিছু অস্ত্র সংগ্রহ করেন। পরে তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন। মেরুল বাড্ডার আবাসিক এলাকার ভেতরে থাকা একটি মাছের আড়ত থেকেই দিনে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা তুলতেন সুব্রত বাইন ও তার সহযোগীরা। সুব্রত বাইন গ্রেপ্তারের পর মাছের আড়তটি নিয়ন্ত্রণ করতেন মেহেদী হাসান। এ ছাড়া গাড়ির শো রুমে, তৈরি পোশাক কারখানায়সহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি সূত্র বলছে, বাড্ডা, ভাটারাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ করতেন মেহেদী হাসান ও তার সহযোগীরা। তারা বিভিন্ন এলাকার সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্রও ভাড়া দিতেন। সুব্রত বাইনের অস্ত্রগুলো মেহেদী হাসান ও গোলাম মর্তুজা বাবু ওরফে মধু বাবুর কাছে রয়েছে। মধু বাবুর কাছেও আরও ১৩ থেকে ১৪টি অস্ত্র রয়েছে।

গত ১৯ এপ্রিল রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থানাধীন নয়াটোলা মোড়ল গলির ‘দি ঝিল ক্যাফে’র সামনে যুবদল নেতা মো. আরিফ সিকদারকে গুলি করা হয়। পরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ হত্যার সঙ্গে সুব্রত বাইনের সহযোগীরা জড়িত ছিল। এ হত্যা মামলায় সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি পুলিশ।

শীর্ষ সন্ত্রাসী (উপরে বাঁ থেকে) সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদ, প্রকাশ বিশ্বাস, তানভীরুল ইসলাম জয়; (নিচে বাঁ থেকে) আবদুল জব্বার মুন্না, ইমাম হোসেন, হারিস আহমেদ ও মশিউর রহমান

ডিবি পুলিশের একটি সূত্র বলছে, সুব্রত বাইন কুমিল্লার কারাগারে রয়েছেন। বাবার সঙ্গে দেখা করে সুব্রত বাইনের সহযোগী মেহেদী হাসান, মধু বাবুসহ বিভিন্নজনকে বার্তা পৌঁছে দিতেন খাদিজা।

পুলিশ জানায়, গতকাল মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তারের সময় উত্তর বাড্ডার ওই বাড়ি থেকে অস্ত্র, গুলি ছাড়াও পিস্তলের ৮টি ম্যাগাজিন, ৩২টি কার্তুজ, একটি ২২ উজি মেশিনগান রাইফেল, উজি রাইফেলের দুটি ম্যাগাজিন, তিনটি চায়নিজ কুড়াল, একটি টাইগার হান্টিং কমান্ডো চাকু, দুটি ওয়াকিটকি, একটি ওয়াকিটকি ব্যাটারি, তিনটি পিস্তলের সাইড কভার ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।


 

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!